মৌজা নকশা থেকে কোনো দাগের জমির পরিমাণ মোটামুটি নিজেই বের করা যায়। মূল কথা একটাই: ১৬ ইঞ্চি = ১ মাইল স্কেলের নকশায় ১ বর্গইঞ্চি = ২৫০ শতাংশ (২.৫ একর)। দাগটি নকশায় কত বর্গইঞ্চি, সেটা বের করে ২৫০ দিয়ে গুণ করলেই শতাংশে জমির পরিমাণ পাওয়া যায়।
আগে স্কেলটা বুঝে নিন
বাংলাদেশের বেশিরভাগ মৌজা নকশা ১৬ ইঞ্চি = ১ মাইল স্কেলে আঁকা। ১ মাইল = ৫,২৮০ ফুট, তাই নকশার ১ ইঞ্চি = মাটিতে ৩৩০ ফুট। জরিপের হিসাবে ৬৬ ফুটে ১ চেইন (গান্টার শিকল), অর্থাৎ নকশার ১ ইঞ্চি = ৫ চেইন। কিছু নকশা ৩২ বা ৬৪ ইঞ্চি = ১ মাইল স্কেলেও থাকে — নকশার কোণে স্কেল লেখা থাকে, আগে সেটা দেখে নিন।
| নকশার স্কেল | ১ ইঞ্চি = মাটিতে | ১ বর্গইঞ্চি = জমি |
|---|---|---|
| ১৬ ইঞ্চি = ১ মাইল | ৩৩০ ফুট (৫ চেইন) | ২৫০ শতাংশ |
| ৩২ ইঞ্চি = ১ মাইল | ১৬৫ ফুট | ৬২.৫ শতাংশ |
| ৬৪ ইঞ্চি = ১ মাইল | ৮২.৫ ফুট | ১৫.৬২৫ শতাংশ |
মনে রাখার হিসাব: ১ একর = ১০০ শতাংশ = ৪৩,৫৬০ বর্গফুট, আর ১ শতাংশ = ৪৩৫.৬ বর্গফুট।
কী কী লাগবে
- সঠিক স্কেলে প্রিন্ট করা মৌজা নকশা (নিচে সতর্কতা দেখুন)।
- ৩৩০ স্কেল — যার দাগ নকশার স্কেলের সাথে মিলিয়ে বানানো, ফলে সরাসরি ফুট/চেইনে মাপ পড়া যায়।
- গুনিয়া (ফাইন বা ট্রান্সপারেন্ট) — সমকোণ টেনে লম্ব (উচ্চতা) মাপতে।
- ডিভাইডার — দাগের বাহুর দৈর্ঘ্য তুলে এনে স্কেলে মাপতে।
- ক্যালকুলেটর, পেন্সিল।
পদ্ধতি ১: দাগকে ত্রিভুজে ভাগ করে হিসাব (সবচেয়ে প্রচলিত)
- দাগের সীমানার এক কোণ থেকে বিপরীত কোণে পেন্সিল দিয়ে কর্ণ টেনে পুরো দাগকে কয়েকটি ত্রিভুজে ভাগ করুন।
- প্রতিটি ত্রিভুজের একটি বাহুকে ভূমি ধরে ডিভাইডার বা স্কেলে তার দৈর্ঘ্য মাপুন।
- গুনিয়া দিয়ে বিপরীত কোণ থেকে ভূমির ওপর লম্ব টেনে উচ্চতা মাপুন।
- প্রতিটি ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল = ½ × ভূমি × উচ্চতা (বর্গইঞ্চিতে)।
- সব ত্রিভুজ যোগ করে ২৫০ দিয়ে গুণ করুন (১৬ ইঞ্চি স্কেলের নকশা হলে)।
উদাহরণ: একটি ত্রিভুজের ভূমি ০.৫ ইঞ্চি, উচ্চতা ০.৩ ইঞ্চি। ক্ষেত্রফল = ½ × ০.৫ × ০.৩ = ০.০৭৫ বর্গইঞ্চি। জমি = ০.০৭৫ × ২৫০ = ১৮.৭৫ শতাংশ।
আয়তাকার দাগ হলে আরও সহজ: দৈর্ঘ্য ০.৪ ইঞ্চি × প্রস্থ ০.২ ইঞ্চি = ০.০৮ বর্গইঞ্চি → ০.০৮ × ২৫০ = ২০ শতাংশ।
পদ্ধতি ২: স্কেলে সরাসরি ফুটে মেপে হিসাব
৩৩০ স্কেল দিয়ে দাগের বাহুগুলো সরাসরি ফুটে পড়ুন (নকশার ১ ইঞ্চি = ৩৩০ ফুট)। তারপর ফুটে ক্ষেত্রফল বের করে ৪৩৫.৬ দিয়ে ভাগ করলে শতাংশ পাবেন। যেমন ১৩২ ফুট × ৬৬ ফুট = ৮,৭১২ বর্গফুট ÷ ৪৩৫.৬ = ২০ শতাংশ। আমাদের জমি মাপার ক্যালকুলেটরে বাহুর মাপ দিলে এই হিসাব নিজে থেকেই হয়ে যায়।
পদ্ধতি ৩: বর্গঘর গুনে আনুমানিক হিসাব
স্বচ্ছ গ্রাফ শিট বা ট্রান্সপারেন্ট স্কেল দাগের ওপর রেখে দাগের ভেতরে কয়টি পূর্ণ বর্গঘর পড়ছে গুনুন; অর্ধেকের বেশি ঢাকা ঘরকে ১টি আর অর্ধেকের কম ঢাকা ঘর বাদ দিন। মোট ঘর × প্রতি ঘরের ক্ষেত্রফল = দাগের আনুমানিক পরিমাণ। আঁকাবাঁকা সীমানার দাগে এই পদ্ধতি কাজে আসে।
যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি হয়
- ভুল মাপে প্রিন্ট: JPG ছবি A4 কাগজে প্রিন্ট করলে নকশা ছোট হয়ে যায়, তখন ১ ইঞ্চি আর ৩৩০ ফুট থাকে না। মাপার জন্য প্রিন্ট রেডি ফাইল সঠিক মাপে প্রিন্ট করুন, অথবা নকশার একটি পরিচিত দূরত্ব মেপে স্কেল মিলিয়ে নিন।
- স্কেল না দেখা: ৩২ বা ৬৪ ইঞ্চি স্কেলের নকশায় ২৫০ দিয়ে গুণ করলে হিসাব অনেক বেশি আসবে।
- পেন্সিলের মোটা দাগ: সীমানা রেখার মাঝখান ধরে মাপুন; মোটা রেখার বাইরের কিনারা ধরলে পরিমাণ বেড়ে যায়।
নকশার হিসাব বনাম খতিয়ানের পরিমাণ
নকশা থেকে বের করা পরিমাণ খতিয়ানে লেখা পরিমাণের সাথে হুবহু না-ও মিলতে পারে — পুরোনো নকশার কাগজ সংকুচিত হওয়া, হাতে আঁকার ভুল বা মাপার ভুলের কারণে। সামান্য পার্থক্য স্বাভাবিক। বড় পার্থক্য দেখলে জমি কেনাবেচা বা মামলার আগে অভিজ্ঞ সার্ভেয়ার দিয়ে মাঠে মাপ করিয়ে নিন। আরও জানতে পড়ুন জমি কেনার আগে মৌজা নকশা যাচাই।
আপনার দাগের নকশা খুঁজতে জেলাভিত্তিক মৌজা ম্যাপ দেখুন। হার্ড কপি অর্ডারের সাথে ফাইন গুনিয়া, ৩৩০ স্কেল ও ডিভাইডার একই পার্সেলে নিতে পারবেন — আলাদা ডেলিভারি চার্জ ছাড়াই।
বিডি মৌজা







