বাংলাদেশে জমির রেকর্ড ও নকশা তৈরি হয়েছে কয়েক দফা জরিপে — সিএস, এসএ, আরএস ও বিএস। প্রতিটি জরিপে নতুন খতিয়ান ও নতুন মৌজা নকশা তৈরি হয়েছে। জমির মালিকানার ধারাবাহিকতা (চেইন) প্রমাণ করতে প্রায়ই সব কয়টি জরিপের খতিয়ান ও নকশা মিলিয়ে দেখতে হয়।
এক নজরে চার জরিপ
| জরিপ | পূর্ণরূপ | সময়কাল | মূল কথা |
|---|---|---|---|
| সিএস | Cadastral Survey | ১৮৮৮ (রামু, কক্সবাজার) থেকে ১৯৪০ | সবচেয়ে পুরোনো পূর্ণাঙ্গ জরিপ; মৌজাভিত্তিক প্রথম নকশা ও খতিয়ান |
| এসএ | State Acquisition | রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর পর | জমিদারি প্রথা বিলোপের পর রেকর্ড হালনাগাদ; অনেক জায়গায় পিএস/পাকিস্তান আমলের রেকর্ড নামেও পরিচিত |
| আরএস | Revisional Survey | পাকিস্তান আমলের শেষ দিক থেকে শুরু | মাঠে নতুন করে মেপে সংশোধিত নকশা ও খতিয়ান |
| বিএস | Bangladesh Survey | স্বাধীনতার পরে | সর্বশেষ জরিপ; অনেক এলাকায় এখন ডিজিটাল জরিপ চলছে |
সিএস জরিপ ১৮৮৮ সালে কক্সবাজারের রামুতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়ে ১৮৯০ সাল থেকে সারা পূর্ববঙ্গে চলে এবং ১৯৪০ সালে দিনাজপুরে শেষ হয়।
সিএস জরিপ ও নকশা
ব্রিটিশ আমলের এই জরিপে প্রথমবার প্রতিটি মৌজার দাগভিত্তিক নকশা আঁকা হয়। পুরোনো মালিকানা, পৈতৃক সম্পত্তি বা অনেক পুরোনো দলিল মেলাতে সিএস নকশা ও খতিয়ান দরকার হয়। নকশাগুলো সাধারণত ১৬ ইঞ্চি = ১ মাইল স্কেলে।
এসএ জরিপ ও নকশা
১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে জমির মালিকদের নাম সরাসরি সরকারের অধীনে রেকর্ড করার প্রয়োজন পড়ে। এসএ রেকর্ডে অনেক ক্ষেত্রে মাঠে নতুন করে না মেপে সিএস নকশাই ব্যবহার করা হয়েছিল। তাই কোনো কোনো এলাকায় এসএ ও সিএস নকশা প্রায় একই রকম দেখায়।
আরএস জরিপ ও নকশা
আরএস জরিপে মাঠে গিয়ে নতুন করে মাপজোখ করে নকশা ও খতিয়ান সংশোধন করা হয়। এজন্য আরএস নকশাকে অনেকে বেশি নির্ভরযোগ্য মনে করেন। অনেক এলাকায় আরএস রেকর্ডই এখনো সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত।
বিএস জরিপ ও নকশা
স্বাধীনতার পরের এই জরিপ এলাকাভেদে বিভিন্ন সময়ে হয়েছে। নামজারি (খারিজ) ও বর্তমান দাগ খুঁজতে বিএস খতিয়ান ও নকশা প্রধান রেফারেন্স। যেসব এলাকায় বিএস জরিপ চূড়ান্ত হয়েছে, সেখানে বর্তমান লেনদেনে সাধারণত বিএস রেকর্ড দেখা হয়।
কোন কাজে কোন নকশা দরকার
| কাজ | যে নকশা/রেকর্ড লাগবে |
|---|---|
| জমি কেনার আগে মালিকানার ধারাবাহিকতা যাচাই | সিএস থেকে বিএস পর্যন্ত সব জরিপের খতিয়ান ও নকশা |
| বর্তমান দাগের অবস্থান ও সীমানা | বিএস (না থাকলে আরএস) নকশা |
| পৈতৃক বা অনেক পুরোনো সম্পত্তি | সিএস ও এসএ নকশা |
| নামজারি আবেদন | সর্বশেষ জরিপের খতিয়ান ও দাগ নম্বর |
| সীমানা বিরোধ বা মামলা | সব জরিপের নকশা মিলিয়ে দেখা, সার্টিফাইড কপি |
দাগ নম্বর এক জরিপ থেকে আরেক জরিপে বদলায়
একই জমির দাগ নম্বর সিএস, এসএ, আরএস ও বিএস-এ আলাদা হতে পারে, কারণ প্রতিটি জরিপে দাগ নতুন করে নম্বর দেওয়া হয়েছে, কোথাও দাগ ভেঙে বা জোড়া লেগেছে। পুরোনো দাগের সাথে নতুন দাগ মেলাতে দুই জরিপের নকশা পাশাপাশি রেখে জমির অবস্থান, আশপাশের রাস্তা, খাল বা পুকুর দেখে মিলিয়ে নিন। মৌজার নাম একই থাকলেও জেএল নম্বর জরিপভেদে আলাদা হতে পারে — জেএল নম্বর খুঁজুন টুলে আপনার মৌজার জেএল নম্বর দেখে নিতে পারেন।
সব জরিপের নকশা কোথায় পাবেন
বিডি মৌজায় একই মৌজার সিএস, এসএ, আরএস ও বিএস — যে জরিপের নকশা আছে, সবই একসাথে পাবেন; কেনার আগে প্রিভিউ দেখে নিতে পারবেন। জেলাভিত্তিক মৌজা ম্যাপ পাতায় আপনার জেলা ও উপজেলা বেছে নিন। একসাথে ৩টি বা বেশি নকশা নিলে পুরো অর্ডারে ১০% ছাড়। আইনি কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস থেকে সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করুন।
বিডি মৌজা







